Delivery to
Bangladesh
All
Search for "medicine products"
Search for "healthcare products"
Search for "beauty products"
Search for "medicine products"
Search for "healthcare products"
Search for "beauty products"
Search for "medicine products"
Search for "healthcare products"
Search for "beauty products"
Search for "healthcare products"
Hello, User
Account & Orders
0

অস্বাভাবিক চুল পড়ার ১১টি কারণ

June 30, 2024
Share this tips with friends

অস্বাভাবিক চুল পড়ার ১১টি কারণ   

 

চুল পড়া প্রতিদিনের একটি সাধারণ ঘটনা যা আপনার চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রের অংশ। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে, পড়ে যাওয়া চুলগুলি আবার গজায় । তবে অসুস্থতা, হরমোনাল পরিবর্তন, মানসিক চাপ, বয়স এবং বংশগত কারণগুলি আপনার চুলের বৃদ্ধির চক্রে বাধা দিতে পারে। এতে করে যে পরিমাণ  চুল ঝরে পড়ে যায় এবং সে পরিমাণ নতুন চুল গজায় না।

 

চুল আমাদের রূপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিন্তু, সেটা ঝরে পড়তে শুরু করে, তখন তা আত্মবিশ্বাসের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।  এই প্রবন্ধে, আমরা চুল পড়ার বিভিন্ন প্রকার চুল পড়ার ধরণ, কারণ ও লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করব।

 

অস্বাভাবিক চুল পড়া বলতে কি বুঝায় 

 

অধিকাংশ সুস্থ মানুষ প্রতিদিন ১০০ টির মতো চুল হারায়। এটি চুলের বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্রের অংশ। পুরনো চুল ঝরে গেলে নতুন চুল গজিয়ে তাদের জায়গা নেয়।

 

কখন চুল পড়া অস্বাভাবিক? যখন আপনি অতিরিক্ত চুল হারাতে শুরু করেন এবং নতুন চুল কম বা না গজালে, তখন তাকে অ্যালোপেসিয়া বলা হয়।

 

অ্যালোপেসিয়া বা চুল পড়ার কারণ 

 

চুল পড়ার সমস্যা বিভিন্ন রকম হতে পারে এবং তা বিভিন্ন কারণে ঘটে। সাধারণত চুল পড়া প্রধান ধরণের হতে পারে: অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া, টেলোজেন এফ্লুভিয়াম, এবং অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা। 

 

প্রতিটি ধরনের নির্দিষ্ট লক্ষণ এবং কারণ থাকে, যা নির্ধারণের মাধ্যমে আপনি সঠিক চিকিৎসা বা প্রতিকার গ্রহণ করতে পারবেন। 

 

চুল পড়ার বিভিন্ন ধরনে রয়েছে, কিছু সাধারণ এবং কিছু বিরল, এবং প্রত্যেকের অন্তর্নিহিত কারণ ভিন্ন। চুল পড়ার ধরনের উপর নির্ভর করে, এটি জেনেটিক, অভ্যন্তরীণ কারণ, অথবা বাহ্যিক কারণের ফলে হতে পারে। 

 

এখানে কিছু বিভিন্ন ধরনের চুল পড়ার উদাহরণ দেওয়া হলো:

 

১. অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া

 

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া সাধারণত জেনেটিক এবং হরমোনাল কারণের সংমিশ্রণে ঘটে। এই ধরনের চুল পড়া ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়।

 

পুরুষদের, অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ার লক্ষণগুলো সাধারণত কপালের দিক থেকে শুরু হয় এবং মাথার সামনের দিক এবং মুকুট (Crown) অংশে চুল পাতলা হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত, চুল পড়ে গিয়ে মাথার মধ্যভাগের চামড়া স্পষ্ট হয়ে যায়।

 

নারীদের, এই ধরনের চুল পড়া সাধারণত পুরো মাথার চুল পাতলা হওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। নারীদের ক্ষেত্রে মাথার সামনের দিকের চুল সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু সেন্টার পার্টিং এলাকায় চুল পাতলা হয়ে যায়।

 

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া সাধারণত মধ্যবয়সে শুরু হয়, কিন্তু এটি কম বয়সেও শুরু হতে পারে। হরমোন ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT) চুলের ফোলিকলগুলিকে সংকুচিত করে, যার ফলে চুল পাতলা এবং ক্ষুদ্র হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে ঘটে এবং স্থায়ী হতে পারে।

 

এই ধরনের চুল পড়া রোধে এবং নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি আছে, যেমন মিনোক্সিডিল এবং ফিনাস্টেরাইড এছাড়া, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি এবং লেজার থেরাপিও কার্যকর হতে পারে। তবে, চিকিৎসা শুরু করার আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

২. টেলোজেন এফ্লুভিয়াম

 

টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হলো একটি চুল পড়ার সমস্যা যা সাধারণত শরীরের ফিজিওলজিক্যাল বা মানসিক চাপের ফলে ঘটে। এই অবস্থায় চুলের বৃদ্ধি চক্রের টেলোজেন পর্যায়ে অনেক চুল প্রবেশ করে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ঝরে যায়। সাধারণত, চুল পড়ার এই ধরণটি অস্থায়ী হয় এবং কিছু সময়ের মধ্যে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসে। 

 

টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের কারণ হিসেবে সাধারণত গর্ভধারণ, বড় অস্ত্রোপচার, গুরুতর অসুস্থতা, মানসিক চাপ, এবং পুষ্টির ঘাটতি উল্লেখ করা হয়। এই অবস্থায় চুল পাতলা হয়ে যায় এবং মাথার ত্বকের স্পষ্টতা বাড়তে থাকে, কিন্তু চিরতরে চুল হারানোর সম্ভাবনা থাকে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

 

৩. অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা

 

অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা হলো একটি অটোইমিউন রোগ, যা শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম চুলের ফলিকল বা গোড়াকে আক্রমণ করে এবং এর ফলে চুল পড়ে যায়। এই রোগের কারণে মাথার ত্বক, মুখমণ্ডল, এবং শরীরের অন্যান্য অংশের চুল হঠাৎ করে পড়ে যেতে পারে।

 

অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার লক্ষণগুলি সাধারণত মাথার ত্বকে গোলাকার বা বৃত্তাকার ছোট ছোট অংশে চুল পড়ে যাওয়া দিয়ে শুরু হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে এবং সম্পূর্ণ মাথার ত্বক বা শরীরের চুল পড়ে যেতে পারে। এই রোগটি যে কোনো বয়সে হতে পারে, তবে সাধারণত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

 

অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার সঠিক কারণ এখনো সম্পূর্ণরূপে জানা যায়নি, তবে এটি বংশগত এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে ঘটে বলে মনে করা হয়। মানসিক চাপ, সংক্রমণ বা হরমোনাল পরিবর্তনও এই রোগের কারণ হতে পারে।

 

এই রোগের নিরাময় এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তবে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে যা চুলের পুনরায় বৃদ্ধি ঘটাতে পারে। সাধারণত কর্টিকোস্টেরয়েড, মাইনোক্সিডিল, এবং ইমিউনোথেরাপি ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং মানসিক সাপোর্ট ও কাউন্সেলিং রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

 

সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রে চুল পুনরায় বৃদ্ধি পায়। তবে এই রোগটি পুনরায় হতে পারে, তাই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

 

৪. ট্র্যাকশন এলোপেশিয়া

 

ট্র্যাকশন এলোপেশিয়া হলো এক প্রকারের চুল পড়া সমস্যা যা সাধারণত অতিরিক্ত টান বা চাপের ফলে ঘটে। এই সমস্যা বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, কারণ তাদের চুলের সাজের ধরন যেমন পনিটেল, ব্রেইড, বা টাইট হেয়ারস্টাইলের কারণে চুলের গোড়ায় চাপ পড়ে। এই টান ও চাপের ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং চুল পড়তে শুরু করে।

 

ট্র্যাকশন এলোপেশিয়া প্রাথমিকভাবে মাথার সামনের এবং পাশের অংশে দেখা যায়। এই সমস্যার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মাথার ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি এবং কিছু ক্ষেত্রে মাথার ত্বকে ছোট ছোট ফোঁড়া বা ক্ষত সৃষ্টি হওয়া।

 

এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রথমেই উচিত টাইট হেয়ারস্টাইল থেকে বিরত থাকা এবং চুলের যত্নে সতর্ক হওয়া। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে নানান চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, যেমন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার, হালকা চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানো, এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ। ট্র্যাকশন এলোপেশিয়া একদম শুরুতেই ধরা পড়লে এবং সঠিকভাবে যত্ন নিলে চুল পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব।

 

৫. জিনগত বা বংশগত  

 

জেনেটিক্স বা বংশগতি চুল পড়ার একটি প্রধান কারণ। পরিবারে চুল পড়ার ইতিহাস থাকলে, আপনার চুল পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পুরুষের টাক বা নারীর পাতলা চুল (androgenetic alopecia) অনেক সময় জিনগতভাবে প্রাপ্ত হয়।

 

৬. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

 

থাইরয়েড সমস্যা, মেনোপজ, গর্ভাবস্থা, প্রসবোত্তর সময়কাল, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) ইত্যাদির কারণে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা চুল পড়ার কারণ হতে পারে। বিশেষত থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, মহিলাদের মেনোপজ, গর্ভাবস্থা, এবং পিসিওএস-এর মতো অবস্থার কারণে চুল পড়তে পারে।

 

৭. পুষ্টির ঘাটতি

 

পুষ্টির অভাব, বিশেষত আয়রন, প্রোটিন, এবং ভিটামিন ডি-এর অভাব, চুল পড়ার কারণ হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় না রাখলে, চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে।

 

৮. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস

 

মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ চুল পড়ার আরেকটি সাধারণ কারণ। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ চুলের বৃদ্ধির চক্রকে ব্যাহত করে, যার ফলে চুল পাতলা হয়ে যায় এবং পড়ে যায়।

 

৯. অসুস্থতা ও গর্ভাবস্থায় 

 

কিছু নির্দিষ্ট অসুস্থতা, যেমন অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, থাইরয়েড সমস্যা, এবং ত্বকের সংক্রমণ, চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

 

১০. ছত্রাক সংক্রমণ

 

Tinea capitis নামক ছত্রাকের সংক্রমণ খুশকি এবং চুল পড়ার কারণ হতে পারে

 

১১. কেমিক্যাল ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

 

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়তে পারে। অতিরিক্ত গরম পানি, রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট, এবং চুল টানলে চুল পড়তে পারে।

 

চুল পড়া প্রতিরোধের উপায়

 

  • প্রোটিন, আয়রন, এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • চুল পড়া রোধে প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ, অ্যালোভেরা, পেঁয়াজের রস, এবং মেথি বীজ ব্যবহার।

  • চুলের সঠিক যত্ন, যেমন নিয়মিত চুল ধোয়া, ভাল মানের শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার, এবং চুলের তেল প্রয়োগ করা, চুল পড়া রোধে সহায়ক।

  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, যেমন যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, এবং পর্যাপ্ত ঘুম, চুল পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

  • নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং চুলের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে।

 

উপসংহার

 

চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব যদি আপনি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আপনি আপনার চুলের স্বাস্থ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন।

Was this post helpful?

5

4
🎉 Be the first one to comment on this post

    Leave a comment

    Submit